প্রচ্ছদসারাদেশগৃহকর্মীকে নির্যাতন, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী কারাগারে

গৃহকর্মীকে নির্যাতন, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী কারাগারে

নাটোরের গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকায় সিআইডি পুলিশে কর্মরত এসআই খন্দকার আতিকুর রহমানের স্ত্রী সুমি বেগমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন নাটোরের আদালত।

বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী শ্যামলী (১২) নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদৌল গ্রামের মঞ্জিল হোসেনের মেয়ে।

সুমি বেগম নাটোর সদরের ছাতনী ভাবনি গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে।

বুধবার বিকালে সুমি বেগম গৃহকর্মী শ্যামলীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবা-মাকে দেখাতে নাটোরের পাইকেরদৌল গ্রামে যান। শ্যামলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আত্মীয়স্বজন জিজ্ঞাসা করলে শিশু গৃহকর্মী টানা তিন বছর ধরে চলা নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সুমি বেগম এবং শাশুড়ি দিলারা বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বুধবার মধ্যরাতে নাটোর থানায় সুমি বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন গৃহকর্মী শ্যামলীর মা নার্গিস বেগম।

বৃহস্পতিবার নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এএফএম গোলজার হোসেন জামিন না দিয়ে সুমি বেগমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী ও তার পরিবার জানায়, অভাবের তাড়নায় দরিদ্র বাবা-মা ভিকটিমকে মাসিক এক হাজার দুইশ টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজে দিতে বাধ্য হয়েছে। শ্যামলী (১২) তিন বছর আগে ঢাকায় সিআইডি পুলিশে কর্মরত এসআই খন্দকার আতিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেয়।

এরপর থেকে তাকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আর দেখা করতে দেয়া হয়নি। শুরুতে আট মাস নিয়মিত বেতন পাঠিয়ে দিলেও পরে আর বেতন দেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

শ্যামলী অভিযোগ করে- কাজে যোগ দেওয়ার এক মাস পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে গৃহকর্ত্রী সুমি বেগম কিশোরী গৃহকর্মী শ্যামলীকে বকাঝকা ও নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে তার শরীরে গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা এবং বৈদ্যুতিক প্লাস দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া তুলে ফেলে।

তার মাথা ও হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। কোনো কাজে একটু ভুল করলেই তাকে প্রচুর মারধর করা হতো। জোরে কান্না করলে আরও বেশি মারা হতো।

সে আরও জানায়, তাকে মা বলে ডাকতেন গৃহকর্তা পুলিশের এসআই। নিজের মেয়ের মতো আদর করতেন। মারপিট করার জন্য তিনি তার স্ত্রীকে বকাঝকাও করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্যামলীর পরিবার অনেকবার বলার পরও তাকে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো হয়নি।

অনেক প্রচেষ্টার পর বুধবার সুমি বেগম ও তার মা গৃহকর্মী শ্যামলীকে নিয়ে অল্প সময়ের জন্য দেখা করাতে তাদের গ্রামে আসে।

এ সময় গৃহকর্মীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে গ্রামবাসী তাদের আটক করেন। পরে নাটোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে সুমি বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করে। বৃহস্পতিবার আদালত সুমি বেগমকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তারেক জুবায়ের বলেছেন, আইন সবার জন্য সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তাই পুলিশের একটি টিম মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সুমি বেগম আটক করেছে। গৃহকর্মী শ্যামলীর মায়ের দায়ের করা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত

সর্বশেষ